কাজিরহাট প্রতিনিধি (মোঃ জুনায়েত হোসেন )::
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন ভাসানচর ইউনিয়নে যাতায়াতের প্রধান সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দফাদার বাজার থেকে হেশামতি বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন-চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রধান সড়কটি সংস্কারের অভাবে বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্ত আর ভাঙাচোরা। খালের পাড় ঘেঁষে যাওয়া এই সড়কের পাশে কোনো শক্তিশালী গাইড ওয়াল বা বাউন্ডারি না থাকায় সড়কটি দিন দিন খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তা এতটাই সরু হয়ে গেছে যে একটি অটোরিকশা পর্যন্ত চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঠিকমতো যানবাহন না চলায় তাদের কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, আবার অনেক সময় পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকার কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙা রাস্তার কারণে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন পাওয়া যায় না, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
সড়কটি ভাঙাচোরা হওয়ায় সাধারণ ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি প্রায় ৮-১০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের সময়ই অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এটি টেকসই হয়নি। খাল সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়াল না থাকায় সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারের চাপেই সড়কটি ধসে পড়েছে।
বর্তমানে এই সড়কটি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ভাসানচর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন যেন অতি দ্রুত এই মেইন সড়কটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। একটি সুন্দর ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জনজীবন স্বাভাবিক করার জন্য তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন