শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৪৬
শিরোনাম :
পটুয়াখালীর কালিশুরীতে ব্র্যাক ইউপিজি কর্মসূচির আওতায় ষাঁড় বিতরণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ: নলছিটিতে গৃহবধূর সংবাদ সম্মেলন নলছিটিতে জমি নিয়ে বিরোধ: নির্মাণকাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগ নলছিটিতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পঁচা কলা বিতরণ: সরবরাহকারীকে ঘিরে অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ শেবাচিম হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে বিসিসি প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনের মতবিনিময় সভা বিদ্যুৎ থাকলেও বন্ধ ফ্যান, নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের নাভিশ্বাস নলছিটিতে জমি বিরোধের জেরে যুবককে কু*পি*য়ে জখম; থানায় অভিযোগ উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষ উদ্যোগ রক্তের সম্পর্ক ছাপিয়ে ৪ দশকের মায়া: গৃহকর্মীর মৃত্যুতে ৫শ মানুষকে খাওয়ালেন নলছিটির মাহফুজ খান নলছিটিতে আওয়ামী লীগ আমলে দখল হওয়া জমি ও দোকান উদ্ধারের দাবি সাবেক সেনাসদস্যের পরিবারের

সুদিনের সুবিধাভোগী আতিক-বজলু এখন অন্তরালে, জামায়াত নেতার সাথে গোপন বৈঠকের অভিযোগ!

স্টাফ রিপোর্টার | বরিশাল

বরিশাল মহানগরীর ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা এখন কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নাটকীয়ভাবে গঠিত এই কমিটির শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা, অযোগ্যতা এবং বিরোধী শক্তির সাথে আঁতাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংকটে কর্মীদের কোন খোঁজখবর রাখেনি বরং তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিলেন বলে দাবি সাধারণ কর্মীদের।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ১২নং ওয়ার্ডের নূরিয়া কিন্ডারগার্টেন মাঠে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সেরনিয়াবাত ভবনে গভীর রাতে ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বজলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আতিকুর রহমান মুন্নার নাম ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সুবাদে আতিকুর রহমান মুন্না কোনোদিন আওয়ামী লীগ রাজনীতি না করেও গুরুত্বপূর্ণ এই পদ বাগিয়ে নেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, সভাপতি বজলুর রহমান শুরু থেকেই সাংগঠনিক ও শারীরিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন এই দুই নেতা হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার দাপটে ব্যস্ত থাকলেও কর্মীদের খোঁজ করেনি কখনো। সভাপতি দিনের অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটাতেন এবং সাধারণ সম্পাদক নিজে অন্তআারালে। সবসময় নিজের কাজে মগ্ন থাকতেন। বর্তমানে দল প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়লে তারা মাঠ থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছেন। অনলাইনে কিংবা অফলাইনে—কোথাও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কার এক ঘটনা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের ঠিক আগে সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মুন্না তার বাসভবনে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হন।

বরিশাল মহানগরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নামে মামলা থাকলেও ১১নং ওয়ার্ডের এই দুই শীর্ষ নেতার নাম কোনো মামলায় নেই। স্থানীয়দের দাবি, জামায়াতের এক নেতার সাথে তাদের গোপন সমঝোতা হয়েছে। ওই নেতা আগামী সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চান এবং আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা তাকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ক্ষমতার সময় সব সুবিধা ভোগ করলেও এখন দলকে ডুবিয়ে নিরাপদ দূরত্বে আছেন এই ‘বসন্তের কোকিল’ নেতারা। ১১নং ওয়ার্ডের ত্যাগী কর্মীদের এখন প্রশ্ন—দলের এই দুর্দিনে কেন তাদের দায়িত্ব পালনে দেখা যাচ্ছে না।

এবিষয় সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মুন্নাকে তার মুঠো ফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি, হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর মেলেনি, বজলুর রহমান কে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার পাওয়া যায়নি।

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা