মাছুদুর রহমান আসলাম, ক্রাইম রিপোর্টার::
বরিশাল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পাচার ও কালোবাজারির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। আমতলী ফকিরহাট পাম্পের নামে বরাদ্দকৃত ৬ হাজার লিটার ডিজেল অবৈধভাবে শরীয়তপুরে বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। এই জালিয়াতির পেছনে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপো ম্যানেজার (ডিএম) শরিফুল ইসলাম ও ডিলার মিলনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝালকাঠির তেলের ডিলার মিলন বরিশাল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে বরগুনার আমতলী ফকিরহাট এলাকার একটি পাম্পের নামে ৬ হাজার লিটার ডিজেলের চালান সংগ্রহ করেন। নিয়ম অনুযায়ী এই তেল আমতলীতে যাওয়ার কথা থাকলেও, ডিপো ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম ও ডিলার মিলনের যোগসাজশে তা কালোবাজারির উদ্দেশ্যে শরীয়তপুরের ভোজেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই কর্মকর্তা ডায়মন্ড তালুকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তেলের লরিটি হাতেনাতে আটক করেন। খবর পেয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা পান।
অভিযানে দেখা যায়, চালান কপিতে ৬ হাজার লিটার তেলের কথা উল্লেখ থাকলেও ট্যাংকলরিতে ছিল ৭ হাজার লিটার ডিজেল। অর্থাৎ, ১ হাজার লিটার তেল সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অতিরিক্ত সরবরাহ করা হয়েছে। সিন্ডিকেটটি বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সেই তেল কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করছিল।
জালিয়াতি ও তেল চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই দুই পক্ষকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
তেল পাচারের বিষয়ে ডিলার মিলনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিএম শরিফুল ইসলাম নিজেকে আড়াল করতে গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলছেন। এমনকি তিনি ‘তালাশ বিডি’র নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে রেখেছেন এবং হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
পদ্মা অয়েলের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তেল নিয়ে এমন নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে নেমেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।