শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৩০
শিরোনাম :
পটুয়াখালীর কালিশুরীতে ব্র্যাক ইউপিজি কর্মসূচির আওতায় ষাঁড় বিতরণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ: নলছিটিতে গৃহবধূর সংবাদ সম্মেলন নলছিটিতে জমি নিয়ে বিরোধ: নির্মাণকাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগ নলছিটিতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পঁচা কলা বিতরণ: সরবরাহকারীকে ঘিরে অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ শেবাচিম হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে বিসিসি প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনের মতবিনিময় সভা বিদ্যুৎ থাকলেও বন্ধ ফ্যান, নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের নাভিশ্বাস নলছিটিতে জমি বিরোধের জেরে যুবককে কু*পি*য়ে জখম; থানায় অভিযোগ উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষ উদ্যোগ রক্তের সম্পর্ক ছাপিয়ে ৪ দশকের মায়া: গৃহকর্মীর মৃত্যুতে ৫শ মানুষকে খাওয়ালেন নলছিটির মাহফুজ খান নলছিটিতে আওয়ামী লীগ আমলে দখল হওয়া জমি ও দোকান উদ্ধারের দাবি সাবেক সেনাসদস্যের পরিবারের

কাজিরহাটে ৪ বছর ধরে ভাঙা ব্রিজ যেন ‘মরণফাঁদ’, সুপারি গাছই গ্রামবাসীর একমাত্র ভরসা

মোঃ জুনায়েত হোসেন, কাজিরহাট থানা প্রতিনিধি::

বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার ২ নং লতা ইউনিয়নে একটি ব্রিজের অভাবে কয়েক গ্রামের মানুষের জীবন এখন চরম দুর্ভোগে। উপজেলার আসলি সন্তোষপুর এলাকায় চৌধুরী বাড়ির সামনের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি দীর্ঘ ৩-৪ বছর ধরে ভেঙে পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এটি এলাকাবাসীর কাছে এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে আসলি সন্তোষপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সন্তোষপুর বাংলাবাজার স্কুলের ঠিক পেছনে অবস্থিত ব্রিজটি মাঝখান থেকে ভেঙে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। অথচ এই পথ দিয়েই প্রতিদিন সন্তোষপুরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েক গ্রামের মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীরা যাতায়াত করেন। ব্রিজের পাশেই বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষের আনাগোনা এই পথে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরকারি কোনো উদ্যোগ না পেয়ে গ্রামবাসী বাধ্য হয়ে ব্রিজের ভাঙা অংশে সুপারি গাছ বিছিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সেই সুপারি গাছের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা। স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানিতে সুপারি গাছ পিচ্ছিল হয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কয়েক বছর ধরে এই কষ্টের মধ্যে আছি। ব্রিজের ওপর সুপারি গাছ দিয়ে চলাচল করছি, কিন্তু বর্ষা এলে জীবন হাতে নিয়ে চলতে হয়। একটা ব্রিজ কি তিন-চার বছরেও ঠিক হয় না?”
শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলের ঠিক পেছনেই ব্রিজটি হওয়ায় তাদের প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে এটি পার হতে হয়। এছাড়া ব্রিজটি ভেঙে থাকায় ভ্যান, রিকশা বা কোনো জরুরি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে অসুস্থ রোগী পরিবহন কিংবা বাজারে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটিরই অপচয় ঘটাচ্ছে।

আর কতকাল এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে—এমন প্রশ্ন এখন লতা ইউনিয়নবাসীর। দ্রুত এই ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী কয়েক গ্রামের মানুষ।

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা