নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি::
ঝালকাঠির নলছিটিতে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এক সাবেক সেনাসদস্যের পৈত্রিক জমি ও ছয়টি দোকান ঘর জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে প্রভাবশালী দখলদারদের কবলে থাকা এই সম্পত্তি উদ্ধারে এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নলছিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক সেনাসদস্য মৃত আবুল কালাম আজাদের মেয়ে আইরিন সুলতানা। এসময় তাঁর মা, ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আইরিন সুলতানা অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা মরহুম আবুল কালাম আজাদ সেনাবাহিনীতে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯০ সালে তিনি নলছিটি শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘সাথির মোড়ে’ পৈত্রিক ও লিজ নেওয়া জমিতে নিজের জমানো টাকা দিয়ে ছয়টি আধাপাকা স্টল নির্মাণ করেন। এই দোকানের ভাড়ায় চলত তাঁদের সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ।
তিনি আরও জানান, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় প্রভাবশালী ও দলীয় ক্যাডারদের মদদে আলমগীর হোসেন খান নামে এক ব্যক্তি দোকানগুলো জোরপূর্বক দখলে নেন। সে সময় নলছিটি থানায় একাধিকবার অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। উল্টো তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে আবুল কালাম আজাদকে মারধর ও তাঁর পরিবারকে নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে সবকটি রায়ে আদালত আবুল কালাম আজাদের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু আদালতের রায় থাকার পরেও গত ১৫ বছরেও তাঁরা সেই জমি ও দোকান বুঝে পাননি। আইরিন বলেন, “দোকান ফেরত পাওয়ার দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।”
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের মাধ্যমে সালিস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু দখলদার আলমগীর হোসেন খান কোনো কাগজপত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হননি। বর্তমানেও তিনি গায়ের জোরে দোকানগুলো দখলে রেখেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি দোকানের আশেপাশে গেলে তাঁর ভাড়াটে লোকজন দিয়ে গুম ও খুনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন আইরিন।
এ অবস্থায় পৈত্রিক সম্পত্তি ও আয়ের উৎস ফিরে পেতে আইরিন সুলতানা এবং তাঁর পরিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।