শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:০২
শিরোনাম :
পটুয়াখালীর কালিশুরীতে ব্র্যাক ইউপিজি কর্মসূচির আওতায় ষাঁড় বিতরণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ: নলছিটিতে গৃহবধূর সংবাদ সম্মেলন নলছিটিতে জমি নিয়ে বিরোধ: নির্মাণকাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগ নলছিটিতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পঁচা কলা বিতরণ: সরবরাহকারীকে ঘিরে অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ শেবাচিম হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে বিসিসি প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনের মতবিনিময় সভা বিদ্যুৎ থাকলেও বন্ধ ফ্যান, নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের নাভিশ্বাস নলছিটিতে জমি বিরোধের জেরে যুবককে কু*পি*য়ে জখম; থানায় অভিযোগ উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষ উদ্যোগ রক্তের সম্পর্ক ছাপিয়ে ৪ দশকের মায়া: গৃহকর্মীর মৃত্যুতে ৫শ মানুষকে খাওয়ালেন নলছিটির মাহফুজ খান নলছিটিতে আওয়ামী লীগ আমলে দখল হওয়া জমি ও দোকান উদ্ধারের দাবি সাবেক সেনাসদস্যের পরিবারের

রক্তের সম্পর্ক ছাপিয়ে ৪ দশকের মায়া: গৃহকর্মীর মৃত্যুতে ৫শ মানুষকে খাওয়ালেন নলছিটির মাহফুজ খান

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:
রক্তের কোনো টান নেই, নেই কোনো জন্মসূত্র; তবুও দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি ছিলেন একটি পরিবারের ছায়াসঙ্গী। ঝালকাঠির নলছিটির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার মাহফুজ খানের পরিবারের সেই অতি পরিচিত মুখ ‘আজুফা’ গত বুধবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিনের এই সঙ্গিনীর মৃত্যুতে ওই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আজুফার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় শুক্রবার (জুম্মাবাদ) এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন গৃহকর্তা মাহফুজ খান। মল্লিকপুরে নিজ বাড়িতে প্রায় ৫০০ জন মানুষকে দাওয়াত করে খাবারের আয়োজন করেন তিনি। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় পরিবারের সদস্য হয়ে ওঠা এই আজুফাকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে এক অসহায় অবস্থায় আশ্রয়ের খোঁজে মাহফুজ খানের পুরাতন বাড়িতে আসেন আজুফা। তখন তিনি নিজের পরিচয় বা আত্মীয়-স্বজনের কোনো হদিস দিতে পারেননি। আজুফার সেই অসহায়ত্ব দেখে মাহফুজ খানের মা তাকে নিজের কাছে রেখে দেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি বাড়ির পরিচারিকা থেকে হয়ে ওঠেন পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য সদস্য।
স্বভাবজাতভাবেই আজুফা ছিলেন স্বল্পভাষী ও পরিচ্ছন্ন। বাড়ির ছোট-বড় সবার প্রতি তার ছিল গভীর মমতা। তার আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে মাহফুজ খানের মা মৃত্যুর আগে ছেলেকে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন, “আজুফাকে সারাজীবন নিজের কাছে আগলে রাখিস।” মায়ের সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন মাহফুজ খান। দীর্ঘ সময় তাকে মায়ের মতো পরম যত্ন ও স্নেহে আগলে রেখেছিলেন তিনি।
গৃহকর্তা মাহফুজ খান জানান, “আজুফা আমাদের কাছে শুধু গৃহকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের অভিভাবকের মতো। আমার মা তাকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন। আজ তিনি নেই, তার আত্মার শান্তির জন্য আমাদের এই সামান্য আয়োজন।”
স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়ে যেখানে আপনজনেরাই একে অপরের দায়িত্ব নিতে চায় না, সেখানে একজন পরিচয়হীন মানুষকে ৪০ বছর ধরে আশ্রয় দেওয়া এবং তার মৃত্যুর পর এমন রাজকীয় বিদায় জানানো মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত। নলছিটির মানুষের হৃদয়ে আজুফা ও এই পরিবারের ভালোবাসার গল্প দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা