বিজলী ডেস্ক::
বরিশালে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করা হয়। আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা ও পুষ্পার্ঘ অর্পণ। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আজ সকালে সার্কিট হাউজে একটি আলোচনা সভা আয়োজন করে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস জাতির জন্য একটি কালো অধ্যায়। স্বাধীন বাংলাদেশ যেন একটি অচল রাষ্ট্রে পরিণত হয় সে লক্ষ্যে বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর নীল নকশায় রাজাকার, আল বদর, আল শামসের সহযোগিতায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ওপর এই নির্মম হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়। এছাড়াও তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি আরও উল্লেখ করেন পৃথিবী যতদিন থাকবে, দেশ যতদিন থাকবে ততদিন বীর মুক্তিযোদ্ধারা দলমত নির্বিশেষে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকবেন।
অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক, হত্যাকাণ্ডের জড়িত প্রত্যেকের শাস্তি নিশ্চিতকরণ, আলজেরিয়া ও ভিয়েতনামের পাশাপাশি পৃথিবীর মাত্র তিনটি দেশের একটি হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গ এবং শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ, চেতনা ও দর্শন ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক, ন্যায়ানুগ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নেয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এস এ মহিউদ্দিন মানিক, বীর প্রতীক, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, বরিশাল রেঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ শফিকুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নজরুল হোসেন এবং জেলার পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম।
আলোচনা সভার আগে বরিশালের ত্রিশ গোডাউনে অবস্থিত বধ্যভূমিতে বীর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী। পুষ্পার্ঘ অর্পণ অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ জামিল হাসান, জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ড, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, সরকারি ব্রজমোহন কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।