শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, দুপুর ১২:২৫
শিরোনাম :
সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি নিচেছ বিএসএফ হাটহাজারীতে তৌহিদি জনতার ঢল, আল্লামা শফীকে চির বিদায়ের প্রস্তুতি কৌশল বদলে ফের ক্যাসিনো শরতে নয়, এবার দুর্গাপূজা হবে হেমন্তে ! ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে পাথরঘাটায় ডাকাতি ! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথেষ্ট দক্ষতায় আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুরে রূপচাঁদার নামে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মানুষখেকো নিষিদ্ধ পিরানহা বরিশালে সিটি মেয়রের বাস ভবনে নবগঠিত সম্পাদক পরিষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ৪ অক্টোবর থেকে সরাসরি সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট জনশুমারিতে হিজড়াদের লৈঙ্গিক পরিচয় হবে – পরিসংখ্যান ব্যুরো’র মহাপরিচালক

সড়কে মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

বিজলী ডেক্স:

সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে বেপরোয়া মোটর সাইকেল। রাজধানীসহ দেশের সড়ক-মহাসড়কে এসব মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, গত আগস্ট মাসে ৩০২টি দুর্ঘটনার মধ্যে ১২১টিই ঘটেছে মোটর সাইকেলের কারণে। গত বছর সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটর সাইকেল ছিল দ্বিতীয়। ফলে মোটর চালিত এই দ্বিচক্র যানটি এখন ‘মরণযান’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিআরটিএ-এর হিসাব মতে, সারাদেশে নিবন্ধিত ৪৪ লাখ ৭১ হাজার যানবাহনের মধ্যে ২৯ লাখ ৯১ হাজারই মোটর সাইকেল। এর মধ্যে ২৫ শতাংশই ঢাকায় চলাচল করে। প্রতিদিন ঢাকায় নিবন্ধিত হচ্ছে ৪১৫টি মোটরসাইকেল। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত অ্যাপভিত্তিক মোটর সাইকেল বৃদ্ধির কারণে সংখ্যাটি হু হু করে বাড়ছে। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, মোটর সাইকেলের এই দ্রæত সংখ্যা বৃদ্ধি দুর্ঘটনার হারও বাড়িয়ে দিয়েছে। দেখা যায়, অনেক দুর্ঘটনারই কারণ হিসেবে মোটর সাইকেল জড়িয়ে আছে। মোটর সাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, দুর্ঘটনার হার কোনোভাবেই কমানো যাবে না।
রাজধানীর যানজট এড়িয়ে কর্মক্ষেত্রে মানুষকে দ্রুত পৌঁছে দেয়ার জন্য বিগত প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে অ্যাপভিত্তিক মোটর সাইকেল চালু হয়। কর্মজীবীরাও দ্রুত কর্মস্থলে পৌঁছতে এসব ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল বেছে নেয়। ফলে যানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে এসব মোটর সাইকেল যারা চালায়, তারা যাত্রীকে সময় বাঁচিয়ে দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিতে বেপরোয়া হয়ে উঠে। শুধু ভাড়াভিত্তিক মোটর সাইকেলই নয়, এর বাইরে যারা মোটর সাইকেল চালায়, তাদের মধ্যেও বেপরোয়াভাব রয়েছে। তাদের অনেকে ট্র্যাফিক সিগন্যাল তো মানেই না, উল্টো ফুটপাত দিয়ে চলাচল শুরু করে। অনেক সময় হুট করেই চলন্ত বড় যানবাহনকে ওভার টেক করে এগিয়ে যায়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ, সময় বাঁচিয়ে কত বেশি ভাড়া পাওয়া যায়। লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, এসব অ্যাপভিত্তিক মোটর সাইকেলের বেশিরভাগই রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি গ্রাম থেকে আসছে। যারা এসব মোটর সাইকেল চালায়, তারা নিজেদের এলাকায় যেভাবে বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চালাত, রাজধানীতে এসেও একইভাবে চালাচ্ছে। তারা এটা বুঝতে পারে না, মফস্বল শহর বা গ্রামে মোটর সাইকেল চালানো আর রাজধানীতে চালানো এক কথা নয়। করোনার লকডাউনে যানবাহন বন্ধ থাকাকালেও অনেকে জীবন-জীবিকার তাকিদে মোটর সাইকেল নিয়ে বের হয়েছে। বিশেষ করে সড়ক-মহাসড়কে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে ভাড়ায় এসব মোটর সাইকেল ব্যবহার করেছে এবং এখনও করছে। করোনায় বেকার হয়ে পড়া অনেকেই মোটর সাইকেল কাজে লাগিয়েছে। রাজধানী ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এসব মোটর সাইকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা এক ভয়াবহ ব্যাপার। মহাসড়ক এমনিতেই বড় বড় যানবাহন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলাচল করে। এরমধ্যে দুই চাকার ক্ষুদ্র মোটর সাইকেল এসব যানবাহনের ঝড়ো গতির কারণে অনেক সময় চালক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অনেক সময় যানবাহনের নিচে চলে যায়। এতে মোটর সাইকেল চালক ও যাত্রীর যেমন মৃত্যু হয়, তেমনি বড় যানবাহনও দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যাত্রী হতাহতের ঘটনা ঘটে। অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল অনেক বেকারের জীবিকার বাহন হলেও তাদের বেপরোয় মনোভাব দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে মোটর সাইকেল এবং পথচারীরা সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। তারাই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়। যত বেশি মোটর সাইকেল বৃদ্ধি পাবে, দুর্ঘটনার হারও তত বেশি হবে। এখন সবকিছু খুলে যাওয়ায় দুর্ঘটনাও পাল্লা দিয়ে বাড়বে।
রাজধানীসহ সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চালিত মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে ট্র্যাফিক পুলিশকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। যারা সিগন্যাল না মানবে এবং ফুটপাতে মোটর সাইকেল তুলে দেবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। বিআরটিএ-এর উচিৎ মোটর সাইকেল চালকদের লাইসেন্স দেয়ার আগে তাদের দক্ষতা ভালোভাবে পরীক্ষা করা। রোড সেফটি নিয়ে যেসব সংস্থা কাজ করছে, তাদের উচিৎ ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালকদের নিয়ে ওয়ার্কশপের আয়োজন করা। ট্র্যাফিক পুলিশের উচিৎ সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা। সড়কের কোন লেন দিয়ে কোন ধরনের যানবাহন এবং তার গতি কত হবে, তা নির্দিষ্ট করে প্রচারণা চালানো। এছাড়া রাজধানীর বাইরে থেকে রাজধানীতে আসা মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহী করা জরুরি। বলার অপেক্ষা রাখে না, মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা এমনই যে তাতে চালক বা যাত্রীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। বেঁচে থাকলেও সারাজীবন পঙ্গু হয়ে থাকতে হয়। মোটর সাইকেল চালকদেরও বুঝাতে হবে, জীবিকার কারণে বেপরোয়াভাবে মোটর সাইকেল চালিয়ে জীবন হারানোর চেয়ে সুশৃঙ্খলভাবে চালিয়ে জীবিকা অর্জন অনেক বেশি মূল্যবান।