সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ ইং, সকাল ১১:৫৫

হজের খুতবায় যা বললেন মসজিদুল হারামের ইমাম

অনলাইন ডেস্ক::

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দ্বিতীয় বছরের মতো কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জুলাই) দুপুরে আরাফাত ময়দান সংলগ্ন মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা শুরু হয়। আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন নিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ আরাফাত ময়দানে অবস্থান করছেন।

অন্তরের সবটুকু দরদ দিয়ে হাজারও কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)।

চলতি বছর হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা। তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদেরও সদস্য।
বাংলাদেশ সময় ৩টা ৩০ মিনিটে মহান আল্লাহতায়ালার প্রশংসা, রাসুলুল্লাহর (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করে তিনি খুতবা শুরু করেন। ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা আরবি ভাষায় এই খুতবা দিলেও পরে বাংলাসহ ৯টি ভাষায় তা অনুবাদ করা হয়।
খুতবার শুরুতে তিনি মহান আল্লাহতায়ালার প্রশংসা, রাসুলুল্লাহর (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করেন। পাশাপাশি উপস্থিত হাজীদের সুস্থতা কামনায় দোয়া করেন।
ড. বান্দার বলেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, আমি ছাড়া কারও ইবাদত করবে না এবং কাউকে শরিক মানবে না। নবীজী (সা.) বর্ণনা করেছেন, তোমরা পৃথিবীতে বসবাসকারীদের ওপরে দয়া কর, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর দয়া করবেন।

উম্মতের পরস্পরের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সেই ব্যক্তিই নিরাশ হয় যে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। আমার রহমত আমার আজাবের ওপর প্রাধান্য পায়।
তিনি আরও বলেন, হে মানব সম্প্রদায়, আল্লাহতায়ালা তোমাদের ন্যায় ও ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামে মানবজাতির জন্য এমন বিধিবিধান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে সমশ্রেণির মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ইনসাফ ও ন্যায় বিচার ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ। এটি ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। আমাদের আচরণ ও ব্যবহারে এটি ফুটিয়ে তুলতে হবে।
ডা. বান্দার আল্লাহতায়ালা যেভাবে তোমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন তেমনি তুমিও অন্যের ওপর অনুগ্রহ করো। আল্লাহতায়ালার রহমত অনুগ্রহকারীদের নিকটবর্তী থাকে সবসময়। আল্লাহতায়ালা পিতা-মাতার সঙ্গে ভালো আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
খুতবায় তিনি আরও বলেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, তোমার জন্য কুরআনকে নাজিল করা হয়েছে যেন তুমি হেদায়েত পাও। আর আল্লাহ যাকে চান তাকে হেদায়েত দেন। নিজের আত্মশুদ্ধি কর এবং তাকওয়া অবলম্বন করো। নিজের রবের ইবাদত এমনভাবে করো যেন তিনি তোমাকে দেখছেন।
কাবার ইমাম খুতবায় আরও বলেছেন, আল্লাহ পরাক্রমশালী, তাকে ভয় করুন এবং তাকওয়া অবলম্বন করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সব মানুষের সঙ্গেই রয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা কারও আমলকে বিনষ্ট করেন না। আল্লাহ বলেন কোনো বান্দা যদি নিজের উপর অন্যায় (পাপ) করে তবে তার জন্য তওবা করার দরজা উন্মুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমাদের কোনো এলাকায় যদি মহামারি দেখা দেয়, তাহলে সেখান থেকে বের হয়ো না এবং সেখানে প্রবেশ করো না।
প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির কারণে সৌদি সরকার এবারের হজকে সীমিত পরিসরে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে গত বছর একই কারণে শুধু সৌদি আরবে থাকা মাত্র ১০ হাজারের মতো মুসল্লি হজে অংশ নিতে পেরেছেন। তবে এ বছর ১৫০ দেশের মাত্র ৬০ হাজার মানুষ হজ করার অনুমতি পেয়েছেন। তবে শর্ত ছিল যে, করোনার দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকতে হবে।