মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, সকাল ৮:৪৫

প্রভাবশালীদের দখলে শেবাচিমের করোনা আইসিইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক::

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে কতিপয় রোগী ও স্বজনদের স্বেচ্ছাচারিতায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানকার করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কতিপয় রোগী ও স্বজনরা প্রতিনিয়ত অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার লুকিয়ে রাখছেন। এমনকি সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোজিত ইনসেন্টিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিউ) বেডও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। কারন হিসেবে এখানকার করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কতিপয় রোগী ও স্বজনরা জানিয়েছেন তারা ভয়ংকর ভাবে আক্রান্ত হলে,তখন অক্সিজেন অথবা সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোজিত আইসিউ বেড পাবেন কোথায়? রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এমন ভয় সঞ্চার ও অসচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই করোনা ওয়ার্ডে নানারকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।আর এসব অপ্রীতিকর ঘটনার দায়ভার নিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর। যে কারণে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম অক্সিজেন সঙ্কট। আবার অক্সিজেনের কৃত্রিম সঙ্কটের পেছনে শুধু কতিপয় রোগী ও স্বজনরাই দায়ী নয়।এখানকার কর্মচারীদেরও হাত রয়েছে অক্সিজেনের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরীর পেছনে। ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্স

ব্যাতীত অধিকাংশ কর্মচারী এসব অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলেও কর্মচারীরা কৌশল পাল্টে অক্সিজেন চুরি করে লিটার মেপে তা বিক্রি করছে রোগীদের কাছে। বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এদিকে করোনা ওয়ার্ডে আগের তুলনায় চিকিৎসা সেবার মান বাড়লেও প্রচারের অভাবে মানুষ জানতে পারছে না। এমনটাই মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, করোনা ওয়ার্ডে তিন জন ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন’শ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। আর তিন’শ রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজন ত্রিশ জন ডাক্তার। অবশ্য এসব ডাক্তারী চাহিদা মেটাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়েরও সময়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখানে শুধু ডাক্তারী চাহিদা নয়,রয়েছে নার্স সঙ্কটও। তবে ডাক্তার ও নার্স
সঙ্কট থাকলেও চিকিৎসা সেবার মান বিঘ্নিত হচ্ছে না।

সাক্ষাতে কথা হলে- “করোনা ওয়ার্ডে নার্সের উপস্থিতি রয়েছে এবং চব্বিশ ঘণ্টা রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট সেলিনা আক্তার। সেলিনা আক্তার আরও বলেন আমাদের হাসপাতালে নার্স সঙ্কটও রয়েছে। তারপরও আমরা জীবন বাজি রেখে করোনা রোগীদের শরীর স্পর্শ করে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ”

এদিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ এস.এম.মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, “করোনা ওয়ার্ডে মাত্র তিন জন ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হলেও সেবার মান বিঘ্নিত হচ্ছে না। করোনা ওয়ার্ডে কতিপয় রোগী ও স্বজনদের স্বেচ্ছাচারিতায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি । ডাঃ এস.এম.মনিরুজ্জামান বলেন করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কতিপয় রোগী ও স্বজনরা প্রতিনিয়ত অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার লুকিয়ে রাখছেন। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোজিত আইসিউ বেড জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। এমনকি সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোজিত আইসিউ বেডে মৃত করোনা রোগীর পাশে আরেকজন জীবিত রোগী গিয়ে শুয়ে পড়ে বেড দখল করে।”