মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, রাত ১০:৪৩
শিরোনাম :

বাংলাদেশকেও বার্সেলোনার দুঃখ ছুঁয়েছে

বিজলী অনলাইন ডেক্স:

৮ হাজার ১৪৫ কিলোমিটার…।

গুগলের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ-বার্সেলোনার দূরত্ব। গতকাল রাত থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের বার্সেলোনার শোকের মাতমে যেন ভারী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের আকাশ-বাতাসও। মেসির ঘর ছাড়ার খবরে হতাশায় ছেয়ে গেছে বার্সেলোনা। সেই হতাশা যেন ছুঁয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের শহর, জনপদকেও। মেসি না থাকলে বাংলাদেশে বার্সেলােনার সমর্থক কী কমে যাবে! তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—সত্যিই কী মেসি বার্সেলোনা ছেড়ে যাবেন?

২০০০ সালে একটি টিস্যু পেপারে করা চুক্তিতে শুরু হয়েছিল ১৩ বছরের এক ফুটফুটে বালকের বার্সেলোনা অধ্যায়। কাতালুনিয়ার আলো-বাতাস গায়ে মেখেই কৈশোর পেরোনো। তারুণ্যে ধরা দেয় বিশ্বসেরা ফুটবলারের তারকা খ্যাতি। মাঠে নামেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারের তকমা গায়ে লাগিয়ে। জয় পরাজয় ছাপিয়ে মেসি-বার্সেলোনা যেন একই বৃন্তে দুটি ফুল। কিন্তু গতকাল রাতে মেসির আইনজীবীর পাঠানো এক ব্যুরো ফ্যাক্সেই টালমাটাল বার্সেলোনা। করোনাকালে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে কবে প্রশ্নটাকে ছাপিয়েও আপাত বড় প্রশ্ন—বার্সেলোনা ছেড়ে মেসি যাচ্ছেন কোথায়?

কিন্তু পেশাদার একজন ফুটবলার দল বদলাবেন, এই নিয়ে এত হা-হুতাশের কী আছে! এ কথা যারা বলেন, তাদের কাছে ফুটবল একটা খেলা মাত্র। এর সঙ্গে ভালোবাসা আর আবেগের যে মাখামাখি, সেটি তারা বোঝেন না। এক লিওনেল মেসির জন্যই ঢাকার গুলিস্তান মার্কেটে প্রতি বছর বার্সেলোনার কত জার্সি বিক্রি হয়, সে হিসেব নেই। এ দেশের কত কিশোরের ঘরে টানানো আছে বার্সেলোনার জার্সিতে মেসির ছবি, সেই সংখ্যাও নির্ণয় করা কঠিন। জার্সি বিক্রি বা ছবির সংখ্যা বাদ-ই দিন, এই দেশের কুড়ি থেকে বুড়িরা বার্সেলোনার মেসির পায়ে বল দেখার জন্য কত ঘণ্টা রাত জেগেছেন, সেই হিসেব বের করার সামর্থ্য নেই কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ডেরই।
৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১…

বিশ্ব ফুটবলে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকলেও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা গর্ব করতে পারেন, মেসি খেলে গেছেন এ দেশের মাঠেও। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে অন্তত জানিয়ে দেওয়া গিয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে ভালোবাসে কতটা!

আর্জেন্টিনা দলে তারকার ছড়াছড়ি। কিন্তু আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন ওই মেসিই। রাস্তার দুপাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা জনতার লক্ষ্য ছিল বাসের জানালার পর্দার ফাঁক গলে যদি একটিবারের মতো দেখা যায় স্বপ্নের তারকাকে! ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মেসির বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এ দেশের কোটি-কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে। আর মেসির পায়ের জাদুর কথা যদি বলেন, সারা বিশ্বের মতো সেটির ভক্তও বাংলাদেশের শহর-গ্রাম-গঞ্জে অগণিত। সে মেসিকে তারা দেখেন বার্সেলোনার জার্সি গায়ে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মেসির ফুটবল জাদু। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মেসির ফুটবল জাদু। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে।
ফাইল ছবি

৯ বছর পর আরও একটি সেপ্টেম্বরের ঠিক আগে তাই মেসির বার্সা ছাড়ার খবরে চাঞ্চল্য বাংলাদেশেও। ‘যেও না মেসি’স্লোগানে গতকাল রাত থেকে ক্লাবের আশপাশে জড়ো হয়েছে বার্সেলোনা সমর্থকেরা। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের সে জোর নেই। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই জানাচ্ছেন মেসি-বার্সা বিচ্ছেদ নিয়ে তাদের আবেগ-অনুভূতি।

মেসি চলে যাচ্ছেন। স্তব্ধ বার্সা সমর্থকেরা।

মেসি চলে যাচ্ছেন। স্তব্ধ বার্সা সমর্থকেরা।

মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার খবরে ফেসবুকে এক সমর্থক লিখেছেন, ‘অবশেষে বার্সা ছাড়ার ঘোষণা দিলেন লিওনেল মেসি। একজন বার্সা ফ্যান হিসেবে এই সংবাদ মেনে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। সত্যি বলতে মেসিকে এক প্রকার বার্সা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে ….। মেসির জন্য অনেক শুভকামনা রইল। বার্সা মানেই মেসি, আর মেসি মানেই বার্সা—এই জেনারেশন সব সময় এটাই মনে রাখবে। আমাদের জেনারেশন এর সৌভাগ্য যে আমরা মেসি এবং রোনালদোকে এক সাথে পেয়েছি…।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘পুরো ফুটবল বিশ্ব মেসির সিদ্ধান্তে স্তব্ধ। কাতালুনিয়াবাসীরা মেসি কে কতটা ভালোবাসে যার জন্য তারা রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করে দিয়েছে….। আজ মেসি প্রমাণ করে দিল কেন তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড়। আর মানুষ কেন ফুটবলকে এতটা ভালোবাসে, সেটার জ্বলন্ত প্রমাণ মেসি।’

মেসি চলে যাবেন। তাই হতাশ এই বার্সা সমর্থক।

মেসি চলে যাবেন। তাই হতাশ এই বার্সা সমর্থক।

এক মেসি ভক্তের আরেকটি ফেসবুক স্ট্যাটাস এ রকম, ‘ইতিহাসে আর কোনো প্লেয়ারের ক্লাব ছাড়ার কথা উঠলে ফ্যানরা স্টেডিয়ামের বাইরে গেটের সঙ্গে মাথা ঠুকেছে বা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে, জানা থাকলে বলবেন। হয়তো মেসি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

মেসি-বার্সা বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে এক ভক্তের আক্ষেপ, ‘মেসি বার্সাকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন…। কখনো কল্পনাও করিনি মেসি ছাড়া বার্সা আর বার্সা ছাড়া মেসিকে দেখতে হবে। (সূত্র প্রথম আলো)