রবিবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং, দুপুর ১২:৫৬

দেশে ফিরে যাচ্ছেন রাসেল ডমিঙ্গো

স্পোর্টস ডেস্ক

নিউজিল্যান্ড সফর শেষে ক্রিকেটাররা ঢাকার ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও নিজ দেশ তথা দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যাচ্ছেন টাইগার হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে টেস্ট শেষ হলেও ফ্লাইট জটিলতায় এখনই দেশে ফিরতে পারছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আগের ঠিক করা ১৫ জানুয়ারিতেই ফিরতে হবে তাদের। যদিও বৃহস্পতিবারই (১৩ জানুয়ারি) দেশে ফেরার কথা রয়েছে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন এবং মুশফিকুর রহিমের।

পাঁচদিন মাঠে গড়ালে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৩ জানুয়ারি। সে মোতাবেকই ক্রিকেটারদের টিকিট কেটে রেখেছিল বিসিবি। কিন্তু হ্যাগলি ওভালে মাত্র তিনদিনেই টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন দেশে ফেরা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মুমিনুল-লিটনরা। করোনার ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে হুটহাট শিডিউল পাওয়া এখন বেশ ঝামেলার। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফসহ এত বড় বহরের জন্য যা ম্যানেজ করাও প্রায় অসম্ভব। তাই আপাতত দুই দিন ক্রাইস্টচার্চেই থাকতে হবে ক্রিকেটারদের।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগের সূচি অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি ঢাকার দিকে রওয়ানা হয়ে ১৫ জানুয়ারি দেশে ফিরবে মুমিনুল বাহিনী। তবে দলের আগেই দেশে ফিরে আসছেন সুজন এবং মুশফিক।

এদিকে নতুন করে আলোচনায় মুমিনুলদের হেড স্যার রাসেল ডমিঙ্গো। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় এমনিতেই নড়বড়ে তার চেয়ার। ক্রিকেট বিষয়ক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গেল বছরের নভেম্বরেই ডমিঙ্গোকে ছাঁটাই করার গুঞ্জন উঠেছিল। তবে নিউজিল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলা হয়। আর তাই সিরিজটি শেষ হতেই আবারও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

শোনা যাচ্ছে, আসন্ন বিপিএলের পর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগেই যে কোনো কিছুই হতে পারে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এ মুহূর্তে দেশের বাইরে আছেন। দেশে আসলেই এ ব্যাপারে মিটিংয়ে বসতে পারেন তিনি।

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসকে বিদায় করে ডমিঙ্গোর হাতে দলকে সঁপে দিয়েছিল নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। ২০২৩ সালের মধ্যে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর একটি ওডিআই বিশ্বকাপ। ২০১৯ সালের আগস্টে দায়িত্ব পাওয়া প্রোটিয়া কোচের সামনে বড় চ্যালেঞ্জই ছিল।

প্রাথমিকভাবে চুক্তি ছিল ২ বছরের। যার শুরুটা হয় চরম হতাশার মধ্য দিয়ে। ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের কাছে টেস্ট হেরে বসে বাংলাদেশ দল। এরপর ভারত ও পাকিস্তান সফরেও কিছুই করতে পারেনি তারা। মাঝে করোনাভাইরাসের কারণে লম্বা সময় খেলা গড়ায়নি মাঠে। তবে খেলা মাঠে ফিরলেও ডমিঙ্গোর অধীনে সুদিন ফেরেনি টাইগারদের। দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ হার আর নিউজিল্যান্ড সফরে সব ম্যাচ হারের পর ব্যাপক সমালোচনা হয়।

ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় আর জিম্বাবুয়ে সফরের পারফরম্যান্সের পর কিছুটা স্বস্তি ফেরে। মিরপুরে ইচ্ছেমতো উইকেট বানিয়ে খর্বশক্তির অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আকাশে উড়তে থাকেন ডমিঙ্গো। আফ্রিকান কোচের সার্টিফিকেট নিয়ে আত্মবিশ্বাসের বেলুন উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায় মাহমুদউল্লাহরা। ওমান আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রখর রোদে সে বেলুন মিলিয়ে গেছে কোথায়, কেউ জানে না। মাথানত করে ঢাকায় ফিরে স্মৃতির আকাশেও তা খুঁজতে চাইছে না কেউ।