সোমবার, ২রা আগস্ট, ২০২১ ইং, দুপুর ১২:৪৯

রাতেই মোদির মন্ত্রিসভায় যে ৪৩ জন শপথ নেবেন

আন্তর্জাতিক ডেক্স::

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ৪৩ নতুন মন্ত্রী বুধবার (৭ জুন) রাতেই শপথ নেবেন। করোনা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূলের বৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যর্থতার পর সবকিছু ঢেলে সাজাচ্ছেন তিনি।

নতুন মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন নতুন মুখও দেখা যাচ্ছে। পুরনোদেরও রদবদল করা হবে। দিল্লিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি এমন খবর দিয়েছে।
বুধবার শপথ নিতে যাওয়া মন্ত্রিরা হলেন, নারায়ণ রানে, সর্বানন্দ সোনোওয়াল, ডা. বীরেন্দ্র কুমার, জয়শ্রী দত্ত এম সিন্দিয়া, রামচন্দ্র প্রসাদ সিং, অশ্বিনী বিশ্বনাও, পশুপতি পরস, কিরেন রিজিজু, রাজকুমার সিং, হারদ্বীপ সিং পুরি, মানসুখ মান্দাভিয়া, ভুপেন্দ্র যাদব, পুরুষোত্তম রুপালা, জি. কিশান রেড্ডি, আওরং শিং ঠাকুর, পঙ্কজ চৌধুরী, অনুপ্রিয়া সিং প্যাটেল, ডা. সত্যপাল সিং বাগাল, রাজিব চন্দ্র শেখর, শুভ্রা কারান্দলাজি, ভানু প্রতাপ সিং ভর্মা, দর্শনা ভিকরম জার্ডোশ, মিনাক্ষী লিখি, অন্নপূর্ণা দেবি, এ. নারায়ণ স্বামী, কুশাল কিশোর, অজয় ভাট, বি. এল. ভার্মা, অজয় কুমার, চৌহান দেবুসিং, কাপিল মেরসাওয়ার পাতিল, প্রতিমা ভৌমিক, ডা. সুবাস সরকার, ডা. ভগবতী কিশোর কারাদ, ডা. রাজকুমার রঞ্জন সিং, ডা. ভারতি প্রবীণ পাবর, বিশ্বওয়ার টিডু, শান্তানু ঠাকুর, ডা. মুঞ্জাপারা মাহেন্দ্রভাই, জন বার্লা, ডা. এল. মুরুগান, নশিথ প্রমাণিক।
মন্ত্রিসভার রদবদলকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন, স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে, শিক্ষামন্ত্রী পোখরিয়াল নিশাঙ্ক, শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ার, আইন ও প্রযুক্তিমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়া পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভেডেকারের পদত্যাগে সবাই অবাক হয়েছেন। কারণ তিনি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক ধাক্কা লেগেছে। হাসপাতালগুলোতে তখন রোগীদের উপচেপড়া ভিড়ে শয্যা ও ওষুধের সংকটের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ অক্সিজেনের জন্য হাহাকার করছিলেন। অক্সিজেনের অভাবে বহু মানুষকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়েছে।
করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন হর্ষ বর্ধন। মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনের মধ্যে বেশ কিছু বিতর্কেও জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে তাকে। যার মধ্যে এফএমসিজি কোম্পানির পতঞ্জলির বিতর্কিত করোনাবিরোধী কিট করোনিলের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় ইয়োগা গুরু রামদেবও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে কোভিড-১৯ রোগে বিপর্যয়ে এই সংকটের সময়ে কেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা পরিষ্কারভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে সরকারকে এখন বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আর এটি নির্ভর করছে সরকারের টিকাদান পরিকল্পনার ওপর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিকাদান কর্মসূচি বড় হোঁচট খেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও পদত্যাগ করা মন্ত্রিরা হলেন, নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় দত্ত।
শিক্ষামন্ত্রী পোখরিয়াল নিশাঙ্ক দেশটির নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার সময়ে ভারতে অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশজুড়ে বিনামূলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন কোর্স করতে পেরেছেন।
গত ২১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে সর্বভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে (এআইআইএমএস) ভর্তি হয়েছিলেন। পদত্যাগপত্রে তিনি স্বাস্থ্য সংকটের কারণ দেখিয়েছেন।
এছাড়াও গতকাল কর্নাটকে থারচান্দ গেহলতকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মন্ত্রিসভার রদবদল দেখা গেছে।
এখনো নতুন মন্ত্রিদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বুধবার তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে পারেন। দিল্লিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে ডজনখানেক মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।