শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, রাত ১০:২৬
শিরোনাম :
মুলাদীতে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ এর নবাগত কমিটির আনন্দ র‌্যালী ও পথসভা অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জ মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানে ৮ জেলের কারাদন্ড করোনার দ্বিতীয় থাবা মোকাবিলায় আমরা এখন থেকে প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বিশ্বনবীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত শিশু সন্তানের গলায় চাকু ধরে মাকে ধর্ষণ! বরিশালে পরীক্ষার দাবিতে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত প্যাকেজ সুবিধা দিতে ব্যাংকগুলোকে আরো আন্তরিক হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক আরিফ হোসেনের পিতৃবিয়োগে বিজলী বার্তার শোক লাভ ফর ফ্রেন্ডসের উদ্দ্যেগে নলছিটিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত

শরতে নয়, এবার দুর্গাপূজা হবে হেমন্তে !

বিজলী ডেক্স:

বাঙালি হিন্দুর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা সমাগত। আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে পূজার পুণ্যলগ্ন মহালয়া। এর মাধ্যমে শুরু হলো দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

এদিন পিতৃপক্ষের শেষ, দেবীপক্ষের শুরু। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার মর্ত্যে আবির্ভাব ঘটে এইদিন। শ্রী শ্রী চণ্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। এবার দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আসবেন দোলায় চড়ে, ফিরে যাবেন গজে করে।

সাধারণত মহালয়ার ৭ দিন পর শুরু হয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। যা প্রতিবছর আশ্বিন মাসে হয়ে থাকে। তবে এবার আর তা হচ্ছে না। এবার পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে মহালয়ার ৩৫ দিন পর। যা গিয়ে পড়বে কার্তিক মাসে তথা হেমন্তকালে। ফলে এবারের দুর্গাপূজা শারদীয়া না হয়ে হচ্ছে হৈমন্তী!

যে কারণে কার্তিকে পূজা : আজ মহালয়া তথা দেবীপক্ষের উদ্বোধন হলেও আশ্বিন মাসে হচ্ছে না দুর্গাপূজা। এর কারণ, পঞ্জিকার হিসেবে এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস‘ বা অশুভ মাস। শাস্ত্রমতে, এই মাস মলিন মাস। যে মাসে দুইটা পূর্ণিমা বা অমাবস্যা থাকে তাকে ‘মল মাস’ বলা হয়। যা হিন্দি বলয়ে ‘আধিক মাস’ বা অতিরিক্ত মাস হিসেবে পরিচিত। এই মাসে সকল দেবদেবীর ‍পূজা নিষিদ্ধ। তাই তিথি অনুসারে এবার আশ্বিন মাসে না হয়ে দুর্গাপূজা একমাস পর কার্তিক মাসে হবে। অর্থাৎ আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হবে এবারের দুর্গাপূজা।

তিথি-নক্ষত্রের সূক্ষ্ম হিসেব মেলাতেই এই ‘মল’ মাসের উদ্ভব বলে জানিয়েছেন পুরোহিতরা। যারা এসব বিষয়ে ওয়াকিবহাল, তারা জানান, প্রতি উনিশ বছর অন্তর আশ্বিন মাস ‘মল মাস’ হয়। সেই হিসেবে সর্বশেষ ২০০১ সালের আশ্বিন মাস ছিল ‘মল মাস’। তার আগে ছিল ১৯৮২ সালে। ওইসব বছরে দুর্গাপূজা কার্তিক মাসে হয়েছিল। আগামী ২০৩৯ সালেও আশ্বিন মাসও ‘মল মাস’ হতে পারে।

তবে এই হিসেবের পেছনে রয়েছে সূক্ষ্ম হিসেব-নিকেশ। সকল পূজা সূর্য-চন্দ্রের তিথির হিসেব মেনে আয়োজন করতে হয়। তবে সূর্যের ও চাঁদের তিথিগত হিসেবে তারতম্য রয়েছে। সৌর হিসেবে এক মাস গড়ে ত্রিশ দিনে সম্পন্ন হলেও চাঁদের ক্ষেত্রে তা লাগে সাতাশ থেকে সাড়ে ঊনত্রিশ দিন। যে কারণে প্রতি মাসে দুই তিথির হিসাবে কয়েকদিনের ফারাক রয়ে যায়, যা বছর শেষে গড়ে গিয়ে এগারো দিনে দাঁড়ায়।

চান্দ্রতিথি ও সৌরতিথির ফারাক নিয়ন্ত্রণে তাই আড়াই থেকে তিন বছর অন্তর একটি করে মাসকে ‘মল মাস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, পৌষ মাস বাদে সকল মাসই ‘মল মাস’ হয়। এসব হিসেবে প্রতি ১৯ বছর পর আশ্বিন মাসে এসে পড়ে ‘মল মাস’। তাই এ মাসে দুর্গাপূজা না হয়ে হয় পরবর্তী কার্তিক মাসে।

ফলে এবার ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন। এদিন দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন সপ্তমী পূজার মাধ্যমে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান শুরু হবে। আর ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব।