মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, সকাল ৭:৫৪

সমিতির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পাওনাদারদের লাঞ্চিত করছে দাড়িয়ালের কথিত আওয়ামীলীগ নেতা রফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সমিতির পাওনা টাকা চাওয়ায় গ্রাহককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সোমাবার সকালে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের কামারখালি বাজারে এঘটনা ঘটে। সমিতির পাওনা টাকা চাওয়ায় মারধর করে গ্রাহকের ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ভেঙে ছুড়ে ফেলে বন্ধন সমিতির রফিকুল ইসলাম। খানা অভিযোগকারী মিরমদন গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে ইমরান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় বছর কয়েক আগে ইউনিয়নের কামারখালি বাজারে বন্ধন নামে সমিতি চালু করেন একসময়ের এনজিও কর্মি রফিকুল ইসলাম খান। কয়েকশত গ্রাহকের প্রায় চার কোটি টাকার মত হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে সমিতি দেউলিয়ার পথে। পাওনা টাকা আদায় করার জন্য অনেকেই আদালতে মামলা দায়ের ও করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে রফিকুল ইসলাম খান দাঁড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তাকে অবৈধ সাপোর্ট দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি। মানুষের কষ্টে অর্জিত টাকা পয়সা বন্ধন সমিতির নামে আত্মসাৎ করেন রফিকুল ইসলাম খান, উল্টো পাওনা টাকা চাইতে গেলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে লাঞ্ছিত করেন।

এমন ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। কামারখালি বাজার সংলগ্ন মো: সবুজ বলেন, আমার অনেক কষ্টের টাকা আমি না বুঝে রফিকের বন্ধন সমিতিতে রাখি। সেই টাকা উঠানোর জন্য আমি স্থানীয় ভাবে অনেক চেষ্টা করে কোন ফল না পাওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। এরকম অনেক ভুক্তভোগী আছেন যারা দিনের পর দিন বন্ধন সমিতির রফিকের কাছে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য ঘুরছেন, তবে দাঁড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতির প্রত্যক্ষ সাপোর্টের কারনে অনেকটা অসহায় ভুক্তভোগীরা। গত বছর বন্ধন সমিতির পাওনা টাকা আদায়ের জন্য সকলে মিলে রফিকুল ইসলাম খানকে চাপ প্রয়োগ করলে বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য ও দাঁড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সহিদুল ইসলাম হাওলাদার টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত কেউ পায়নি তাদের পাওনা টাকা। এ বিষয়ে দাঁড়িয়াল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য সহিদুল ইসলাম হাওলাদারকে একাধিকার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।

বরিশাল শহরের ভুক্তভূগী কম্পিউটার গ্রাফিক্স ব্যাবসায়ী এস. লিখন নামে ভুক্ত ভুগীর সাথে যোগাযেগ করে জানা যায় তার ও তার পরিবারের কয়েক লক্ষ টাকা রফিক মিয়ার বন্ধন সমিতির বরিশাল হাসপাতাল রোড ব্রাঞ্চে জমা রেখেছিলেন। পরবর্তীতে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমুকি ধামকী দিয়ে টাকার ডকুমেন্ট নিয়ে যায় এবং বাকি টাকা ১৫ দিনের মধ্যেই দিয়ে দিবে বলে জানায়। কিন্তু পরবর্তীতে পাওনা টাকা দিবে না বলে সাফ সাফ জানায়। ভুক্তভুগি আরো বলে রফিক বলে দিয়েছে বর্তমানে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা তার পিছনে রয়েছে। কারো কাছে বিচার চেয়ে বা মামালা দিয়ে কিছুই করতে পারবে না তার একাধিক মামলা আছে তার বিরুদ্ধে কিন্তু কেউ ফল পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাবেওনা কারন সে স্থানীয় নেতাদের ম্যনেজ করে চলে।

আরেক ভুক্তভুগী বরিশালের কাউনিয়া এলাকার মুদি ব্যবসায়ী আঃ কাইয়ুম বলেন যে তার জমাকৃত ১,৫০,০০০/- টাকা ২০১৯ ইং সালে জুলাই মাসে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও অদ্যপর্যন্ত তার কোন টাকা ফেরত না দিয়ে আজ দিচ্ছি কাল দিচ্ছি বলে প্রায় দুই বছরের মত ঘুরিয়ে অবশেষে উপায় অন্ত না পেয়ে উকিল নোটিশ প্রেরন করেন কিন্তু উকিল নোটিসের কোন জবান না দিয়ে উল্টো হুমকি ধামকি দিয়ে বলে যদি ক্ষমতা থাকে টাকা উঠিয়ে নিন।। আমাকে ভীতু ভাবলে ভুল করবেন আমি কোর্ট-পুলিশ- মামলা কিছুই ভয় করি না। আপনি পারলে মামলা করে টাকা উঠিয়ে নিন। এর পর তিনি বরিশাল জজ্ কোর্ট বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও বরিশাল কালীবাড়ী রোডে সহ বিভিন্ন এলাকার শত শত ভুক্তো ভুগী রয়েছে।