শুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, বিকাল ৫:২৮
শিরোনাম :
ট্রাকচাপায় নরসিংদীতে প্রাণ গেল ৪ জনের মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড বরিশালে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বের ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের সার নিয়ে গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিসচিব সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলেদের পর মেয়েরাও হারালো মালদ্বীপকে যশোরে সীমান্তে দেড় কোটির টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক পাচারকারী জনি মোবাইল অ্যাপে ধান-চাল ক্রয়ে সাড়া কম কৃষকের রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হতে চান সোহেল তাজ

বাংলাদেশের সফল টেস্ট অধিনায়কের ৩৫তম জন্মদিন

স্পোর্টস ডেস্ক::

দেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল টাইগার টেস্ট অধিনায়ক, মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিমের ৩৫তম জন্মদিন আজ (সোমবার)। দেশের ক্রিকেটে আলোর মশাল জ্বালাতে ১৯৮৭ সালের ৯ মে বগুড়া জেলার মাটিডালিতে মাহবুব হাবিব ও রহিমা খাতুনের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন মুশফিক।
বাংলাদেশ দলের এ পর্যন্ত সফলতম অধিনায়ক কে? নিঃসন্দেহে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নাম উচ্চারিত হবে দেশের ক্রিকেটভক্তদের মুখে। কিন্তু টেস্টে বাংলাদেশের এ পর্যন্ত সফল অধিনায়ক কে? পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত সাদা পোশাকে যে কজন টাইগার ক্রিকেটার নেতৃত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে সবচেয়ে সফল মুশফিক। ২০০০ সালে টেস্টের মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ম্যাচ খেলে ফেলেছে ১৩০টি। যেখানে জয়ের সংখ্যা মাত্র ১৬টি। যার মধ্যে মুশফিকের অধিনায়কত্বের মোট জয় ৭টি। তার পরে সর্বোচ্চ ৪টি জয় সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাই টেস্টে মুশফিকই এ পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।

মুশফিকের শুরুর গল্পটা অবশ্য খালেদ মাসুদ পাইলটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় দলে নিজেকে পাকাপোক্ত করার মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে ২০০৫ সালে। দলের বেকআপ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ডের সেই সফরে ১৭ বছর বয়সে প্রস্তুতি ম্যাচে সাসেক্সের বিপক্ষে ৬৩ রানের ইনিংস এরপর নটিংহ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ১১৫* রানের ইনিংস খেলেন।

ফলশ্রুতিতে ২৬ মে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট অভিষেক হয় মুশফিকের। তার পরের বছর ৬ আগস্ট হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এর পরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার হয়ে ওঠেন মুশফিক। উইকেট কিপিং এবং মিডল ওর্ডারে বাংলাদেশের মূল ভরসা মুশফিক পরিচিতি পেয়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল হিসেবে। ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মুশফিকুর রহিম দলের ভাইস ক্যাপ্টেন ছিলেন।
২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। তার অধীন বাংলাদেশ টেস্টে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলংকার মতো পরাশক্তিদের। প্রথমবারের মতো খেলেছে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে। সব মিলিয়ে ৩৭টি ওয়ানডে, ৩৪টি টেস্ট এবং ২৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিক।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ৮০টি টেস্ট খেলেছেন মুশফিক। দেশের ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিক মোট ৭টি সেঞ্চুরি ও ২৫ হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৬ গড়ে রান করেছেন ৪৯৩২। বিশ্ব ক্রিকেটে একমাত্র উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে টেস্টে একের অধিক ডাবল সেঞ্চুরির মালিক একমাত্র মুশফিকই। ২০১৮ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিশতক করার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুইটি দ্বিশতক করার রেকর্ড গড়েন মুশফিক।

জাতীয় দলের হয়ে ২৩৩টি ওয়ানডে খেলে ইতোমধ্যে ৬৬৯৭ রান করেছেন তিনি। যার মধ্যে ৮টি সেঞ্চুরি ও ৪১টি অর্ধশতক রয়েছে। আর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি ১০০ ম্যাচ খেলে ১ হাজার ৪৯৫ রান করেন এই ক্রিকেট তারকা।

দেশের ক্রিকেটে গত এক যুগের সব উত্থানপতনের সাক্ষী তিনি। শুধু তাই নয়, মুশফিকের ব্যাট ধরেই অনেক সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। সবার প্রত্যাশা আরও বেশ কয়েক বছর জাতীয় দলকে সার্ভিস দিয়ে যাবেন এ নির্ভরতার প্রতীক।
তবে ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দেখছেন মুশফিকুর রহিম। বর্তমানে মুশির অফ ফর্মেই তার দলে জায়গা হারানোর উপক্রম হয়েছে। খোদ বিসিবি সভাপতিই বলেছেন, সিনিয়ররা স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা