সোমবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২১ ইং, দুপুর ১:৪৪

লকডাউন নিয়ে ফরিদপুরে ভুল বুঝাবুঝি থেকে মারামারি: আহত একজনের মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি ( ফরিদপুর) :

লকডাউনের মধ্যে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সালথা থানা ও উপজেলা পরিষদে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান একজনের নিহত হওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। নিহত তরুণের নাম জুবায়ের (২২)। তিনি রামকান্তপুর ইউনিয়নের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।

পুলিশ সুপার বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। মরদেহ পরিবারের কাছে আছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের সালথা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় থানা, উপজেলা পরিষদ এবং এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে জনতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়। এতে উভয় পক্ষ তর্কে-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা পরিষদ, থানা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট, ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান জানান, এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা হিরামনির কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলার ফুকরা বাজারে যায়। সেখানে পুলিশের ওপরে হামলা হলে এসআই মিজানুর রহমান মাথায় আঘাত পান। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সালথার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা হিরামনি বলেন, সরকার নির্দেশিত আদেশে রুটিন ওয়ার্কে বিভিন্ন বাজারে গিয়েছিলাম। ফুকরা বাজারে সন্ধ্যার আগে যাওয়া হয়। বাজারে চায়ের দোকানে লোকজনের জটলা দেখে তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। এ সময় তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার পরে বিক্ষোভকারীরা আমার অফিস, গাড়ি ও ইউএনও স্যারের অফিস ভবন ও তার গাড়ি পুড়িয়ে দেন।

নগরকান্দা ও সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমিউর রহমান বলেন, হামলাকারীরা কোনো সাধারণ জনতা ছিল না, এদের পেছনে দুষ্টচক্রের ইন্ধন ছিল। যে কারণে সরকারি গাড়ি, অফিস-আদালতে হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশসহ আহত হয় ৩০ জন। আহতদের নগরকান্দা ও ফরিদপুর মেডিকেলে ভতি করা হয়।