মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, সকাল ৭:২৩

পরীমনিকে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

বিনোদন ডেস্ক ::

দেশের আলোচিত নায়িকা পরীমনি। বিভিন্ন সময়ে নানান ঘটনায় সংবাদের শিরোনাম হন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। অবৈধভাবে ‘মিনিবারের’ মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা ও ডিজে পার্টিসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হত তার বাসায়। আর এই সূত্র ধরেই গতকাল বুধবার (৪ আগস্ট) বিকেলে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ওয়াইন, ভয়ংকর মাদক আইস, এলএসডি ও মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে র‌্যাব।

এরপর আলোচিত এ নায়িকাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় র‌্যাবের সদর দপ্তরে। সেখানে র‌্যাবের মুখোমুখি হন পরীমনি। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিজের ভবিষ্যত ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন পরীমনি। এ সময় তিনি কান্নাকাটি করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরীমনিকে সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার একটি কক্ষে রাখা হয়। সেখানে তার সঙ্গে একাধিক নারী র‌্যাব সদস্যরা পাহারায় ছিলেন। সারারাত ঘুমাননি পরীমনি। রাতভর কান্নাকাটি করেছেন।

এক কর্মকর্তা জানান, আটকের পর পরীমনিকে সোজা উত্তরার র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা তাকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তার সঙ্গে উচ্চবিত্ত ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কার কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে- তা অকপটে বলতে শুরু করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কর্মকর্তারা তার উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন, বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস এবং কিছুদিন আগে বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। কোনো কোনো প্রশ্নের জবাবে নিশ্চুপ ছিলেন পরী। তবে বেশিরভাগ সময়ই কান্নাকাটি করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি জানান, এইচএসসি অধ্যয়নকালে ঢাকায় আগমন তার। এখন পর্যন্ত ৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ নায়িকা। ২০১৬ সাল থেকে তিনি অ্যালকোহলে আসক্ত। তিনি নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করতেন। চাহিদা মেটানোর জন্য তিনি নিজের ফ্ল্যাটে মিনিবার স্থাপন করেন। তার এ বারে নজরুল ইসলাম রাজসহ বিভিন্ন লোকজনের যাতায়াত ছিল।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সকালে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে গণমাধ্যমকে জানায় র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে পরীমনিকে থানায় হাজির করে র‌্যাব। র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে সংবাদ সম্মেলন শেষে পরীমনি ও নজরুল রাজকে নিয়ে বনানী থানার উদ্দেশে রওনা দেয় র‌্যাব।

পরীমনি এবং রাজের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরীমনির বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হবে। আর নজরুল রাজের বিরুদ্ধে করা হবে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা। সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

বনানী থানায় মামলা প্রক্রিয়া শেষে আজই ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হবে পরীমনি এবং নজরুল রাজকে। সময় নিউজকে বিষয়টি জানিয়েছে বিশ্বস্ত সূত্র।

এর আগে বিকেলে র‌্যাব সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন জানান, পরীমনির বাসায় ১২০টি ব্যবহৃত মদের বোতল পেয়েছি। এগুলোর সঙ্গে নজরুল ইসলাম রাজের সম্পৃক্ততা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী পরীর বাসায় অভিযান পরিচালনা করেছি। তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পেয়েছি। সেগুলো লাইসেন্সে কভার করে না। আমরা পরীর একটি লাইসেন্স পেয়েছি। যেটি আইনসিদ্ধ নয়। তার লাইসেন্সটি অনেক আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, জিসান এবং মিশু হাসানকে গ্রেপ্তারের পর সুনির্দিষ্ট কিছু বার এবং ফ্ল্যাটের সন্ধান আমরা পেয়েছি। সেই সূত্র ধরেই বনানী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। থানার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।